আমাদেরবাংলাদেশ ডেক্স ঃ মোজারমিল এলাকায় এমবিবিএস পাস না করে এবং বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই নামের আগে ডাক্তার এবং নামের পরে ডিগ্রী লাগিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক দিকে চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা, ঠিক অপরদিকে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসায় স্বাস্থ্য ও আর্থিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে এই এলাকার শ্রমজীবী পোশাক কর্মী সহ সাধারণ মানুষের।
বুধবার (৭ আগস্ট) আশুলিয়ার মোজারমিল এলাকায় গিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সাথেই দেখা যায় ‘নাজ ফার্মেসী -১’ নামের একটি বিশাল সাইনবোর্ড। সেখানে লেখা প্রোঃ ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন (ফিরোজ)। এর নিচে লেখা ডি.এম.এ.এফ (ঢাকা), জেনারেল ফিজিশিয়ান, সুপ্রিম জুট মিলস, আশুলিয়া, ঢাকা। এই মোঃ জাকির হোসেন ফিরোজ এমবিবিএস ডিগ্রীধারী ডাক্তার না হয়েও নামের আগে ডাক্তার এবং নামের পরে সনদধারী ডিগ্রী লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করে আসছেন। তার ‘নাজ ফার্মেসী -২’ নামেও রয়েছে আরেকটি চেম্বার। এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট এ নিজের নামের সাথে ডাক্তার শব্দটি লাগিয়ে সাধারণ শ্রমজীবী অধ্যুষিত এলাকায় দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা পেশা!!
আরেকটি বিষয় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ওই একই সাইনবোর্ডে উল্লেখ আছে, ‘এখানে মহিলা ডাক্তার দ্বারা আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি এবং সকল প্রকার রক্ত, মল-মূত্র পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু ‘নাজ ফার্মেসী -১’ এ গিয়ে দেখা যায় এটা শ্রেফ একটি ডিস্পেনসারি, ভিতরে ছোট্ট একটি রুমে ছোট্ট একটি টেবিল এবং রোগীদের পরীক্ষা করার একটি বেড ব্যতীত আর কিছুই নেই। মহিলা ডাক্তারের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় নাই। এই জাকির হোসেন ফিরোজ একাই দুইটি ফার্মেসীতে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক না হয়েও নামের আগে ডাক্তার লাগিয়ে চিকিৎসা করে চলেছেন। এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে যে, একজন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক না হয়েই তিনি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র এবং প্রয়োজনে ডাক্তারি সনদপত্র প্রদান করে থাকেন।
এবিষয়ে এই প্রতিবেদকের নিকট ভিডিও বক্তব্যে জাকির হোসেন ফিরোজ স্বীকার করেন যে তার এমবিবিএস ডিগ্রি নেই এবং বিএমডিসি’র সনদ ছাড়াই তিনি নামের আগে ডাক্তার শব্দটি লাগিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অনেকদিন ধরেই চিকিৎসা করে আসছেন। এক পর্যায়ে তিনি ওই ভিডিও বক্তব্যে স্বীকার করেন যে এটা আইনত অপরাধ এবং তিনি নামের আগে ডাক্তার শব্দটি লাগাতে পারেন না। এই প্রতিবেদককে তিনি এও জানান যে, ভবিষ্যতে তিনি তার নামের আগে ডাক্তার শব্দটি আর ব্যবহার করবেন না।
এব্যাপারে মুঠোফোনে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হুদা মিঠুর নিকট এমবিবিএস ডিগ্রিধারী না হয়ে যেকোনো পল্লী চিকিৎসক কিংবা এজাতীয় ডিগ্রীধারী কেউ নামের আগে ডাক্তার শব্দ লাগাতে পারেন কিনা এবং লাগালে সেটা আইনত দন্ডনীয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশন ছাড়া এবং তাদের অনুমতি ছাড়া কেউই নামের আগে ডাক্তার শব্দটি লাগাতে পারবে না। কেউ যদি এমন করে তবে তিনি আইনত অপরাধ করেছেন।